চণ্ডীদাস

একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি - বাংলা - সাহিত্যপাঠ | NCTB BOOK
616

পূর্ব বাংলার বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাস ছিলেন জাতিতে ব্রাহ্মণ। তাঁর আরাধ্য দেবতার নাম বাশুলী বা বিশালাক্ষী। তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি অর্থাৎ চৌদ্দ শতকের শেষার্ধ থেকে পনের শতকের প্রথমার্ধ সময়ের কবি ছিলেন। তিনি বড়ু চণ্ডীদাস থেকে পৃথক কবি ছিলেন এ কথা নিশ্চিত।

  • বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি চণ্ডীদাস।
  • চণ্ডীদাস সহজিয়াপন্থী কবি ছিলেন।
  • তিনি পূর্বরাগ পর্যায়ের পদ রচনায় পাণ্ডিত্য দেখিয়েছেন।
  • চৈতন্যদেব তাঁর পদাবলি শুনে বিমোহিত হয়েছিলেন।

চণ্ডীদাসঃ

চণ্ডীদাস ছিলেন বৈষ্ণব কবি, সহজিয়াপন্থী ও বাশুলি দেবীর ভক্ত। তিনি বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি। শিক্ষিত বাঙালি বৈষ্ণব সাহিত্যের রস ও আনন্দের সংবাদ পেয়েছে চণ্ডীদাসের পদাবলি থেকে। চৈতন্যদেব তাঁর পদাবলি শুনে বিমোহিত হয়েছিলেন। তিনি পূর্বরাগ পর্যায়ের পদ রচনায় পাণ্ডিত্য দেখিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে 'দুঃখবাদী কবি' বলেছেন।

Key Notes:

  • চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকে সম্পূর্ণ পৌরাণিক ভূমিকায় স্থাপন করেছেন। তিনি রাধার চরিত্রে মিলনের আনন্দের চেয়ে বিচ্ছেদের বেদনাকে তীব্রতর করে রূপায়িত করেছেন।
  • চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, 'চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি- এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি।' এছাড়াও তিনি চণ্ডীদাসকে 'দুঃখবাদী কবি' বলেছেন।
  • চণ্ডীদাসকে প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয় । তিনি 'শুনহ মানুষ ভাই / সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
  • বিখ্যাত উক্তি: ঘর হইতে আঙিনা বিদেশ।

  • সই কেমনে ধরিব হিয়া
    আমার বঁধুয়া আন বাড়ী যায়
    আমার আঙিনা দিয়া।
  • এমন পিরিতি কভু নাহি দেখি শুনি।
    পরানে পরান বান্ধা আপনা আপনি।।
  • সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।
    কাণের ভিতরে দিয়া মরমে পশিল গো ।।
  • 'শুনহ মানুষ ভাই,
    সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই।'
  • যথা তথা যাই আমি যত দূর পাই।
    চাঁদ মুখের মধুর হাসে তিলেকে জুড়াই ॥
  • ঘর কৈনু বাহির, বাহির কৈনু ঘর।
    পর কৈনু আপন, আপন কৈনু পর ॥
  • সই কে বলে পিরিতি ভাল।
    হাসিতে হাসিতে পিরিতি করিয়া কান্দিতে জনম গেল ॥
  • এ ধন যৌবন বড়ায়ি সবঈ অসার।
    ছিণ্ডিআঁ পেলাইবোঁ গজমুকুতার হার ॥
  • বিধিরে কি দিব দোষ করম আপনা।
    সুজনে করিনু প্রেম হইল কুজনা ॥
  • বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে।
    দেখা না হইত পরান গেলে ॥
  • কি মোহিনী জান বঁধু কি মোহিনী জান।
    অবলার প্রাণ নিতে নাহি তোমা হেন ।
  • ঘরের বাহিরে দণ্ডে শতবার।
    তিলে তিলে আসে যায় ।।
  • বঁধু কি আর বলিব আমি।
    মরণে জীবনে জনমে জনমে / প্রাণনাথ হৈও তুমি ॥
  • কানুর পিরিতি চন্দনের রীতি ঘষিতে সৌরভময়।
    ঘষিতে আনিয়া হিয়ায় লইতে দহন দ্বিগুণ হয় ॥
  • কলঙ্কের ডালি মাথায় করিয়া আনল ভেজাই ঘরে।
  • তোমার লাগিয়া কলঙ্কের হার গলায় পরিতে সুখ।
  • চোরের মা যেন পোয়ের লাগিয়া ফুকরি কাঁদিতে নারে।
Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...